বাংলাদেশের ফুটবল-শুভার্থীরা চমকে উঠতে পারেন। মামুনুল ইসলাম মানেই মাঝমাঠে খেলা তৈরি করার কারিগর। প্লে-মেকার হিসেবে দুদিকে বল বাড়ানোই শুধু নয়, স্ট্রাইকারকে থালায় খাবার সাজিয়ে দেওয়ার মতোই বল বানিয়ে দেন। বাংলাদেশ দলের খেলাটা মামুনুলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে।
কিন্তু ফাবিও লোপেজ জমানায় এতে ‘ফুলস্টপ’ পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। ইতালিয়ান কোচ মামুনুলকে ‘পদোন্নতি’ দিয়ে এরই মধ্যে স্ট্রাইকিংয়ে দু-একবার পরখ করেছেন। তবে বেশি ব্যবহার করেছেন মাঝমাঠের ডান পাশে। এটিই সম্ভবত মামুনুলের নতুন পজিশন। বিকেএসপিতে কাল বাফুফে একাদশের সঙ্গে জাতীয় দলের অনুশীলন ম্যাচটা সেই বার্তাই দিল।
মামুনুলই নিজেকে এভাবে দেখতে রাজি নন। জায়গা পাল্টে যাওয়ায় তিনি ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত, ‘নতুন জায়গায় চেষ্টা করছি মানিয়ে নিতে। কিন্তু সত্যি বলতে, আমি অস্বস্তিতে আছি। নিজের সেরাটা খেলতে পারছি না। কাজেই মাঠে আমার পারফরম্যান্স খারাপ হলে কেউ আমাকে দোষ দিতে পারবে না। কারণ কোচ আমার পজিশন বদল করেছেন।’
কোচের সেই অধিকার নিশ্চয়ই আছে। আলো-আঁধারির মধ্যে বিকেএসপির মাঠে দাঁড়িয়ে তা মনেও করিয়ে দিলেন, ‘দেখুন, মামুনুল এই দলের সেরা খেলোয়াড়। মেসি যেমন ডানে শুরু করে ইনসাইডে খেলে। মামুন আজ ওই কাজটাই করেছে। আমি চাইব দলের জন্য সে ত্যাগ স্বীকার করবে।’
কিন্তু মামুনুলকে যে অসুখী লাগছে। তা ছাড়া তাঁর জায়গায় যাঁকে খেলাচ্ছেন সেই কোমল মূলত উইঙ্গার। ইনসাইড মিডফিল্ডে শাখাওয়াত রনি, স্ট্রাইকারই যাঁর মূল পরিচয়। এই রনির ওপরই বইল বেশি ঝড়—রক্ষণে গিয়ে সহায়তা করতে হলো, বল বাড়ালেন আক্রমণেও। পার্শ্বরেখার বাইরে দাঁড়িয়ে লোপেজকে অন্তত ৫০ বার চিৎকার করে করতে শোনা গেল, ‘গো রনি...গো...।’
অনভ্যস্ত জায়গায় রনি বেচারার হাঁসফাঁস অবস্থা, ‘আমি তো কখনো মাঝমাঠে এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় খেলিনি, কষ্ট ও সমস্যা দুটিই হচ্ছে। কিন্তু কোচ চাইছেন কী করব।’ লোপেজ তাঁর চাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘রনি নতুন জায়গায় খেলছে, মাঝমাঠ থেকে সে দলটাকে কীভাবে সহায়তা করতে পারে সেটাই দেখছি।’
কোচের এই ‘দেখা’ নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। উইঙ্গার ফয়সাল মাহমুদ এদিন রাইটব্যাক, রাইটব্যাক থেকে সরে রায়হান খেললেন স্টপারে। অথচ স্টপার রেজাউল বসে আছেন। প্রথম একাদশে চারটি জায়গা বদলই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পেটে টিউমার নিয়ে দল থেকে ছিটকে পড়া স্ট্রাইকার এমিলির কথাটা স্মরণযোগ্য, ‘দলে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভালো। এর আগে এসব করে বিপদ হয়েছে।’ মামুনুলও কাল কণ্ঠ মেলালেন বন্ধুর সঙ্গে, ‘দলে দু-একটি পরীক্ষা হতে পারে। কিন্তু এত বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিপদ ডেকে আনার ভয়ই আছে।’
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পক্ষে লোপেজেরও যুক্তি আছে। সময় পাননি বলে আরও অনেক কিছু করার দেখছেন দলে। তাঁর এই অপ্রস্তুত দল বাফুফে একাদশকে ৪-১ গোলে হারাল। যে দলে খেলেছেন মোবারক, মিন্টু শেখ, মামুন মিয়া, সবুজ, তৌহিদুলরা। জয়টা এখানে বড় নয়, বড় দেখাচ্ছে লোপেজের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর মামুনুলের কাছে ত্যাগ স্বীকারের ডাক!
0 Comment "মামুনুলের কাছে ‘ত্যাগ’ চান লোপেজ!"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন