বোর্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না নাঈমুর

ইদানীং তাঁর অগোচরেই হয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু। অথচ ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে তাঁর আওতাভুক্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হচ্ছে, সেটি তাঁকে জানিয়েই হওয়ার কথা। কিন্তু গত কিছুদিনে সেই নিয়ম উপেক্ষিত হওয়ার ক্ষোভে নাঈমুর রহমান ওই বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল নিজ মুখেই তেমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন যেমন, তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া নিয়েও মুখ খুললেন তিনি।
পদত্যাগ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়কের ভাষ্য, 'নাহ, ওই ধরনের চিন্তা আমি এখনো করিনি। কারণ বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর সমস্যাগুলো মিটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।' কী সেই সমস্যাগুলো? একে একে একটু জেনে নেওয়া যাক। নাঈমুরকে অন্ধকারে রেখেই ভারত সফরে যাওয়া বাংলাদেশ 'এ' দলের ম্যানেজার ও কোচ ঠিক করার খবরটি কিছুদিন ধরে ক্রিকেটাঙ্গনে খুব আলোচিত। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আর নাজমুলের সম্পর্ক ঝুলে যাওয়ার খবরটিও বাতাসে ভাসছে তখন থেকেই। কারণ নাঈমুর 'এ' দলের ম্যানেজার ও নির্বাচকের ভূমিকায় প্রস্তাব করেছিলেন হাবিবুল বাশারের নাম। আর দলটির কোচ করে পাঠাতে চেয়েছিলেন সারোয়ার ইমরানকে। প্রস্তাবনা বোর্ড সভাপতির কাছে যাওয়ার পর অবশ্য সবই বদলে যায়। প্রচার আছে জাতীয় দলের হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নাজমুল 'এ' দলের কোচ করে দেন হিথ স্ট্রিককে। আর ম্যানেজার হিসেবে হাবিবুলের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয় প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের নাম!
এমন ওলট-পালটের পর এ সিদ্ধান্তে অন্তত পৌঁছানো যায় যে বোর্ডে নাঈমুরের কাজের পরিধি কমে গেছে অনেকটাই। প্রসঙ্গটি তুলতেই অভিমানাহত মনে হলো নাঈমুরকে, 'কাজের জায়গা কমা-বাড়ার কিছু নেই এখানে। আমার কাজটুকু আমি করার চেষ্টা করি। আর আমার কাজ কিন্তু সুপারিশ করা পর্যন্তই। অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারটি আমার এখতিয়ারে নেই। এটি নিয়ে আমার কিছু বলারও নেই। আমি সুপারিশ করি। সেটি গৃহীত হতেও পারে, আবার নাও পারে। বোর্ড সভাপতি যদি মনে করেন আমার সুপারিশের চেয়েও ভালো কিছু হতে পারে, তাহলে তিনি সেটাই করেন।' করেছেন 'এ' দলের সাপোর্ট স্টাফ ঠিক করার ক্ষেত্রেও, যা নাঈমুরের কাজের পরিবেশকে স্বস্তিকরও রাখেনি। তিনি নিজেও তা স্বীকার করলেন কাল, 'সত্যি কথা বললে বোর্ডে কাজ করে যে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি, তা নয়।' সেই সঙ্গে বোর্ড সভাপতিকে উদ্দেশ করে এ-ও বলেছেন, 'সোজাসুজি বললে আমার সুপারিশ করা কিছু যদি আপনি গ্রহণ না করেন এবং পাল্টে দেন, সেটা আমাকে বললেই তো হয়। আলাপটা অন্তত আমার সঙ্গেই হওয়া উচিত।'
কথার সূত্র ধরে নাঈমুর টেনেছেন 'এ' দলের ম্যানেজার পদ নিয়ে তাঁর অন্ধকারে থাকার বিষয়টিও, ''খেলোয়াড় কিংবা সাপোর্ট স্টাফের বিষয়ে আমরা ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকেই সুপারিশ করি। এবার যেমন আমরা ঠিক করেছিলাম, বাংলাদেশ 'এ' দলের ভারত সফরে ম্যানেজার ও নির্বাচক একজনই হবেন। সে জন্য আমি প্রধান নির্বাচকের (ফারুক) কাছ থেকে সুপারিশও চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, 'আপনি নাম দেন, যাঁকে আপনি ম্যানেজার কাম নির্বাচক হিসেবে সফরে পাঠাতে চান।' উনিই নাম পাঠিয়েছেন। পরে দেখা গেল যিনি সুপারিশ করেছেন, তিনিই চলে যাচ্ছেন। এ জিনিসগুলো আসলে আমার জানার বাইরে।'' ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নাঈমুর 'প্রটোকল' মেনে চলা নিয়েও খুব সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে বোর্ড সভাপতির কাছে যাতে তাঁর মাধ্যম হয়েই যান হাতুরাসিংহে, এটিই ছিল তাঁর চাওয়া। কিন্তু হাতুরাসিংহে 'প্রটোকল' ভাঙায় তাঁর সঙ্গেও সম্পর্ক সুবিধার নয় নাঈমুরের। কোচের এমন আচরণে বোর্ডের অন্য আরো অনেকেরও ভূমিকা দেখেন তিনি, ''প্রটোকলের কথা আসলে পরে কিছু লোকের কথা বলতে হয়। আমি নাম উল্লেখ করব না। অনেকেই এসে খুব সুন্দর করে আমাকে বলেন, 'কোচের অবশ্যই প্রটোকল মেনে চলা উচিত। তোমার মাধ্যমেই তাঁর বোর্ড সভাপতির কাছে যাওয়া উচিত।' কিন্তু ওই লোকটিই সবার আগে কোচকে সভাপতির কাছে নিয়ে যাচ্ছেন।'' তাঁর আর নাজমুলের মধ্যে দূরত্ব তৈরির ক্ষেত্রে তাই তৃতীয় কারো ভূমিকা অনুমান করাই যায়। যদিও নাঈমুর আরেকটু অপেক্ষা করতে চান, 'উনি (নাজমুল) দেশের বাইরে আছেন। ফিরলে আমি অবশ্যই ওনার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত আসল ঘটনাটা কী, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পাব না।' সেই সঙ্গে সভাপতিকে এ-ও বলবেন, 'বোর্ড সভাপতিরই কেবল কোনো বিভাগ নেই। উনি সব বিভাগেরই বস। সুতরাং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ওনার আছে। এটা উনি করতেই পারেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমার ইস্যুগুলো আমার সঙ্গে আলাপ করে নিলে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব

0 Comment "বোর্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না নাঈমুর"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন